বর্তমানে বিশ্বের আনাচে-কানাচে বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী আছেন। অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্যে আসন্ন বাজেটে সময়োপযোগী সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
গত বাজেটের শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ ছিল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য যা ওই অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। আর বাজেটে এ পুরো অর্থই খরচ হয় মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব খরচের খাতে। এ ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য ব্যয় নেই বলে চলে।
দেশকে উন্নত দেশে উত্তরণের অভিযাত্রায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন রেমিট্যান্স প্রেরক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অথচ প্রবাসীদের সঠিক মূল্যায়ন এবং তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার অভাবে একদিকে যেমন প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে রেমিট্যান্সের এই ধারা ব্যহত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত আনতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
১. প্রবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
পেনশন সুবিধার আওতায় এলে এসকল প্রবাসীরা শেষ জীবনে অন্তত বেঁচে থাকার ভরসা পাবেন। এই দাবিটা যেমন যৌক্তিক, তেমনি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
সম্প্রতি সর্বজনীন পেনশন চালুর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে প্রবাসীদের মাঝে। তারা বলছেন, প্রবাসীদের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা করে রাখা নয়, তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের লভ্যাংশ থেকে অর্জিত অর্থ এবং সরকারিভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে প্রবাসীদের পেনশন দেয়ার দাবি । এতে করে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোয় আরও উৎসাহিত হবেন।
২. প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বীমার দাবি : প্রবাসে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি, এখানে বেশিরভাগ প্রবাসী স্বল্প বেতনে কাজ করেন। অন্যদিকে দেশেও এখন চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালে মৃত্যুবরণ করছেন প্রবাসীরা। তাই বাজেটে প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রেখে প্রবাসে দূতাবাসগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন৷ করা।
৩. প্রবাসীরা বেঁচে থাকা অবস্থায় যেমন অবহেলিত, তেমনি জীবনের শেষ যাত্রায় অনেকের কপালে দেশের মাটিটুকুও জোটে না শুধুমাত্র কাগজপত্রের জটিলতা আর লাশ পরিবহনের অভাবে।
আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিনা খরচে প্রবাসীদের লাশ বহন করলেও এখন তা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেয় বিমান কতৃপক্ষ। এজন্য অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিদেশের মাটিতে দাফন করতে হয়। বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বিদেশে মৃত বাংলাদেশির লাশ দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
৪. দেশে প্রবাসীর (সন্তান-সন্ততি) শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কোটা ব্যবস্থা চালু এবং বৃত্তি প্রদান, প্রবাসফেরত কর্মক্ষম মানুষের জন্য সরকারি ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, কোনরকম হয়রানি ছাড়া সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান।
৫. দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসে চাকুরিচ্যুত কর্মী ও আহত কর্মীদের আইনি সহায়তাসহ প্রবাসীদের সকল সমস্যায় আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার জোর দাবি।
৬.চলমান আয়কর আইন সংশোধন করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর পরিবারের সদস্যদের আয়কর ও প্রবাসীদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর আয়কর মওফুক, দেশের বাইরে কর্মীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, কমিউনিটির উন্নয়নে মিশন কেন্দ্রিক অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরি নির্মাণের দাবি।
এই ছয়টি দাবির বাহিরেও ২৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকে ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাব সভা,সেমিনার ও লেখনির মাধ্যমে উপস্থাপন করে যাচ্ছে। অনেক দাবি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু এই ছয়টি দাবি জাতীয় বাজেটের সাথে সম্পৃক্ত তাই ছয়টি দাবিকে দুই বছর আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
পত্রিকায় প্রকাশিত : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক হলরুমে ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি তাইজুল ফয়েজ এর সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি সুহেল আহমদের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আয়ারল্যান্ডে কর্মরত চিকিৎসক, সংগঠনের উপদেষ্টা ডাক্তার জিন্নুরাইন জায়গীরদার।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি চৌধুরী সালেহ আহমদ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক অপু আলম, একুশে উদযাপন পরিষদ ফ্রান্সের সদস্য সচিব এমদাদুল হক স্বপন, লিগাল এইড এর সভাপতি এম এ আজাদ, বিকশিত নারী সংস্থার সভাপতি সৈয়দা তৌফিকা সাহেদ,বিশিষ্ট সমাজসেবক হোসেন সিদ্দিকী।
বাজেটের প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা অংশ নেন লুডুভিক বাংলা বিভাগের প্রধান এম আলী চৌধুরী, ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব ফ্রান্সের সভাপতি তাজ উদ্দিন,কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য পরিবেশবাদী সাংবাদিক শেখ এমরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক, আলী হোসেন, ওভার ভিলা জাতীয় মসজিদের খতিব হাফিজ জিল্লুর রহমান, ইউরো ফোকাস ফ্রান্স প্রতিনিধি মহিউদ্দিন নিশু, খান দিলওয়ার সহ অনেকে।
লেখক: তাইজুল ফয়েজ
সভাপতি, ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব।
mohammedtaizul211@gmail.com
ডেস্ক নিউজ: 















