আতাউর রহমান কাওছার:ওসমানী নগর থেকে :
অবশেষে সরকারি প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গত ২৮ এপ্রিল হাসপাতালটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কেবল বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালু থাকায় উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে ওসমানীনগর থানাকে উপজেলা ঘোষণার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গোয়ালাবাজার এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ২০২০ সালের শেষদিকে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ভবন, চিকিৎসক ও নার্সদের ডরমিটরিসহ ১০টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মেসার্স পোদ্দার এন্টারপ্রাইজ ও রুপালী কন্সট্রাকশন নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের শেষদিকে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ভবনগুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।
দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মিত হলেও ইনডোর (অন্তরবিভাগ) সেবা চালু না হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসার জন্য এখনও বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সিলেট নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সবচেয়ে বড় বাধা জনবল সংকট। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রয়োজন ৯ জন চিকিৎসক। অথচ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে আবার ২ জন চিকিৎসক প্রেষণে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নার্স, মিডওয়াইফ, ওয়ার্ডবয়, আয়া ও নাইট গার্ডসহ চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মচারীরও তীব্র সংকট রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক, যাতে উপজেলার সাধারণ মানুষ নিজ এলাকাতেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাইনুল আহসান বলেন, “গত ২৮ এপ্রিল আমরা প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ করছে। তবে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য রাজস্ব খাতে প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ জরুরি। বর্তমানে এসব সুবিধা আমাদের কাছে নেই। আশা করছি, দ্রুতই সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর বলেন, “হাসপাতালটির প্রশাসনিক অনুমোদন ইতোমধ্যে হয়েছে। দেশের অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অবকাঠামো থাকলেও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়গুলো আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে এনেছি এবং ডিও লেটারও দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্বে এসেছি। নির্বাচনের আগেই এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। স্বাস্থ্যসেবাসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে।”
ডেস্ক নিউজ: 










