অধ্যাপক ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী তেমন ব্যক্তিদের একজন যাঁরা জ্ঞানের সাথে কর্মের সুষম সমন্বয় ঘটাতে পেরেছেন এবং মেধা-মননের সাথে শ্রমযুক্ত করে সাফল্যকে করেছেন অবধারিত।
ড. চৌধুরীর জন্ম সিলেটে ১৩ ডিসেম্বর ১৯৫৪। তাঁর বাবা মুজিবর রহমান চৌধুরী ও মা রুকিয়া খানম চৌধুরী।
চমকপ্রদ শিক্ষাজীবনের অধিকারী ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপরে ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ থেকে DAIBB ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে ব্যবস্থাপনা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর থিসিসের বিষয় ছিল Financial Crises in South East Asia and its Impact on Bangladesh বাংলাদেশের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক-অর্থনীতির ওপর তাঁর গবেষণা গ্রন্থ ‘Bangladesh in perspective-The Political Economy of Corruption’ ইতোমধ্যে বোদ্ধা মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
১৯৭৯ সালের জুলাই মাসে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদান করে ১৯৯৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপক হিসেবে দীর্ঘকাল সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।শিক্ষা ও মানব উন্নয়নে কাজ করার জন্য তিনি ব্যাংকের চাকরী থেকে সেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
ড.চৌধুরী বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট কোম্পানিতে চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তরে অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা পরিচালক। তিনি ২৪ জানুয়ারি, ২০০২ থেকে ১১ জুলাই ২০০১ পর্যন্ত এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম নেতৃস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একজন উদ্যোক্তা।
শিক্ষানুরাগী ড. তৌফিক রহমান চৌধুরীর ঐকান্তিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে সিলেটের অন্যতম বিদ্যাপীঠ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ৫ মে, ২০০৩ থেকে। পাশাপাশি তিনি পরিচালনা পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সিলেটের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (IBIT) ও সিলেট গ্রামার স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী।
ড. চৌধুরী ২০০৩-২০০৪ সেশনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির একজন নির্বাচিত সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অথর্তনীতি বিভাগ অ্যালমনি এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। পর্যটকমনের অধিকারী ড. চৌধুরী ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।
সরল, নিরহংকার, বন্ধুবৎসল, সদালাপী ও প্রগতিমনস্ক ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নাজিফা খানম চৌধুরী ও একমাত্র পুত্রসন্তান তানভির এম রহমান চৌধুরীকে নিয়ে তাঁর সংসার জীবন।
ডেস্ক নিউজ: 










