ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ওসমানীনগরে নকশী বাংলা’র রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ Logo ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশিকে দেখতে যান কুয়েতের রাষ্ট্রদূত Logo চা-শ্রমিকদের মাঝে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ Logo পর্তুগাল আওয়ামী লীগ স্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন Logo টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে জেরিন খানকে দেখতে চায় ইতালি প্রবাসীরা Logo ফ্রান্সে সিলেট-১ আসনে বিএনপিমনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সমর্থনে নির্বাচনী সভা Logo জিয়ার মাজারে ইউরোপ বিএনপিনেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন Logo ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল-এর দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান Logo ‘এনবিএল’ এজেন্সি গ্রিসে তালাবদ্ধ : ৩০০প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ আটকিয়ে খেছে Logo প্রিয় মাতৃভূমিতে আমরা যেন হানাহানিতে লিপ্ত না হই-আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী
গ্রিসে রেমিট্যান্স যুদ্ধারা হতাশ

‘এনবিএল’ এজেন্সি গ্রিসে তালাবদ্ধ : ৩০০প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ আটকিয়ে খেছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১১৬ বার পড়া হয়েছে

মতিউর রহমান মুন্না, গ্রিস :
প্রবাস থেকে বেশিরভাগই বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার এজেন্সির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
কিন্তু গ্রিসে প্রায় তিন শতাধিকেরও বেশি প্রবাসীর সেই কষ্টার্জিত অর্থই দেড় মাস ধরে আটকে রেখেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনবিএল মানি ট্রান্সফার এসএ’। এরই মাঝে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। এতে চরম হতাশায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদেরই একজন ভুক্তভোগী গ্রিস প্রবাসী মোহাম্মদ ইসলাম। ইসলামের অসুস্থ স্ত্রী ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য জরুরিভাবে ২ হাজার ইউরো, বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা প্রেরণ করেন গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ওমোনিয়ায় অবস্থিত ‘এনবিএল’ মানি ট্রান্সফার এজেন্সির ‘এনবিএল কুইক পে’ এর মাধ্যমে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখে প্রেরণ করা এই রেমিট্যান্স এখনো পৌছায়নি ইসলামের পরিবারের একাউন্টে। প্রতিষ্ঠানটিতে বার বার গিয়েও কোন সুউত্তর পাননি এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
শুধু মোহাম্মদ ইসলামই নয় ওই প্রতিষ্ঠানেরই একটি সূত্র বলছে গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে অন্তত ৩ শতাধিকেরও এর বেশি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো দেশে পরিবারের একাউন্টে পৌঁছায়নি। এনিয়ে দূতাবাসেও লিখিত অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারিও। অনেকেই ধারণা করছেন আটকে থাকা টাকার পরিমান অন্তত ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হবে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর রেমিট্যান্স প্রেরণের রশিদ যাচাই করে দেখা গেছে প্রত্যেকের পাঠানো অর্থের পরিমানই দুই থেকে তিন লক্ষ টাকারও বেশি।
প্রবাসীদের দাবি, কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত এই অর্থ নিয়ম মেনে বৈধ পথে পাঠানোর পরও এতোদিন ধরে তারা কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। উল্টো গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মানিট্রান্সফার এজেন্সিটিতে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসীরা।
অনেকেই পরিবারের একমাত্র ভরসা। দেশে থাকা মা-বাবার চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের নিত্য খরচ. সবই নির্ভর করে এই রেমিট্যান্সের ওপর। কিন্তু তাদের এই অর্থ আটকে থাকায় দেশে থাকা স্বজনরাও পরেছেন বেকায়দায়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী রফিক মিয়া জানান, “ কষ্ট করে কাজ করি শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। দেশের বাড়িতে বাবা অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দেড় মাস হয়ে গেল, টাকা পৌঁছায়নি। এখন ফোন করলে বাড়ির লোকের নানা কথা শুনতে হয়।”
আরেক প্রবাসী শরিফের ভাষায়, “আমরা কেউ বড়লোক না। মাস শেষে বেতন পাঠাই দেশে। সেই টাকাই যদি এভাবে আটকে যায়, তাহলে বিদেশে থাকার মানে কী? এজেন্সিতে গেলে দরজা বন্ধ, কারও কোনো খোঁজ নেই।”
কবির মিয়ার অভিযোগ, শুরুতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করা হলেও এখন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। এতে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, টাকা আদৌ ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস এম রনির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তায় তিনি জানান ‘গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি নেই।’
এ ব্যাপারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রবাসীদের হতাশা ও ক্ষোভ। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আটকে থাকা কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার করা হোক, যাতে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো মানুষগুলো অন্তত পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।

ট্যাগস :

ওসমানীনগরে নকশী বাংলা’র রামাদান ফুডপ্যাক বিতরণ

গ্রিসে রেমিট্যান্স যুদ্ধারা হতাশ

‘এনবিএল’ এজেন্সি গ্রিসে তালাবদ্ধ : ৩০০প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ আটকিয়ে খেছে

আপডেট সময় ০৮:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মতিউর রহমান মুন্না, গ্রিস :
প্রবাস থেকে বেশিরভাগই বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার এজেন্সির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
কিন্তু গ্রিসে প্রায় তিন শতাধিকেরও বেশি প্রবাসীর সেই কষ্টার্জিত অর্থই দেড় মাস ধরে আটকে রেখেছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনবিএল মানি ট্রান্সফার এসএ’। এরই মাঝে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। এতে চরম হতাশায় রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদেরই একজন ভুক্তভোগী গ্রিস প্রবাসী মোহাম্মদ ইসলাম। ইসলামের অসুস্থ স্ত্রী ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য জরুরিভাবে ২ হাজার ইউরো, বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা প্রেরণ করেন গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ওমোনিয়ায় অবস্থিত ‘এনবিএল’ মানি ট্রান্সফার এজেন্সির ‘এনবিএল কুইক পে’ এর মাধ্যমে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখে প্রেরণ করা এই রেমিট্যান্স এখনো পৌছায়নি ইসলামের পরিবারের একাউন্টে। প্রতিষ্ঠানটিতে বার বার গিয়েও কোন সুউত্তর পাননি এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
শুধু মোহাম্মদ ইসলামই নয় ওই প্রতিষ্ঠানেরই একটি সূত্র বলছে গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে অন্তত ৩ শতাধিকেরও এর বেশি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স এখনো দেশে পরিবারের একাউন্টে পৌঁছায়নি। এনিয়ে দূতাবাসেও লিখিত অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব ভুক্তভোগীর তালিকায় রয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারিও। অনেকেই ধারণা করছেন আটকে থাকা টাকার পরিমান অন্তত ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হবে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর রেমিট্যান্স প্রেরণের রশিদ যাচাই করে দেখা গেছে প্রত্যেকের পাঠানো অর্থের পরিমানই দুই থেকে তিন লক্ষ টাকারও বেশি।
প্রবাসীদের দাবি, কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত এই অর্থ নিয়ম মেনে বৈধ পথে পাঠানোর পরও এতোদিন ধরে তারা কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। উল্টো গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মানিট্রান্সফার এজেন্সিটিতে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এতে চরম দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসীরা।
অনেকেই পরিবারের একমাত্র ভরসা। দেশে থাকা মা-বাবার চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের নিত্য খরচ. সবই নির্ভর করে এই রেমিট্যান্সের ওপর। কিন্তু তাদের এই অর্থ আটকে থাকায় দেশে থাকা স্বজনরাও পরেছেন বেকায়দায়।
ভুক্তভোগী প্রবাসী রফিক মিয়া জানান, “ কষ্ট করে কাজ করি শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। দেশের বাড়িতে বাবা অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দেড় মাস হয়ে গেল, টাকা পৌঁছায়নি। এখন ফোন করলে বাড়ির লোকের নানা কথা শুনতে হয়।”
আরেক প্রবাসী শরিফের ভাষায়, “আমরা কেউ বড়লোক না। মাস শেষে বেতন পাঠাই দেশে। সেই টাকাই যদি এভাবে আটকে যায়, তাহলে বিদেশে থাকার মানে কী? এজেন্সিতে গেলে দরজা বন্ধ, কারও কোনো খোঁজ নেই।”
কবির মিয়ার অভিযোগ, শুরুতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করা হলেও এখন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। এতে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, টাকা আদৌ ফেরত পাবেন কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে এনবিএল মানি ট্রান্সফার এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস এম রনির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে হোয়াটসঅ্যাপে এক বার্তায় তিনি জানান ‘গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি নেই।’
এ ব্যাপারে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
এদিকে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রবাসীদের হতাশা ও ক্ষোভ। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আটকে থাকা কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার করা হোক, যাতে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো মানুষগুলো অন্তত পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে।