ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি ওসমানীনগরে বনফুলকে জরিমানা ইউএনও’র দাবী

  • ডেস্ক নিউজ:
  • আপডেট সময় ০৭:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৫০৭৮ বার পড়া হয়েছে

ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগরের বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি তাজপুর শাখাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে আপা ডাকার পর ‘৫০ হাজার টাকা জরিমানা শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ঘটনাটি এমন নয় দাবী করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আপা ডাকায় নয় বাসি মিষ্টি থাকায় বনফুলকে জরিমানা করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগেও বনফুলকে সতর্ক করেছি। কিছুদিন আগে আমি ক্রেতা সেজে বনফুলে মিষ্টি কিনতে গেলে দেখা যায় অনেক আগের বাসি মিষ্টি। কতদিন আগের মিষ্টি সেটা জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারী একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। আমি মিষ্টির চালান দেখতে চাইলে প্রথমে চালান দেখাতে না চাইলেও পরে আমার পুরো টিম আসার পর চালান দেখান। পরবর্তীতে এক কর্মচারী স্বীকার করেন নতুন মিষ্টির সাথে পুরাতন মিষ্টি মিলিয়ে বিক্রি করছেন তারা। ম্যানাজারকে নিয়ে আসতে বললে কর্মচারী সেই মন্নান পালিয়ে যান। যেহেতু আমরা প্রথমে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীর নিকট থেকে স্বীকারোক্তি পেয়েছি সেজন্য পরবর্তীতে ম্যানাজার আসলে আমি পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে নিয়ে আসতে বললে তিনি তাকে লোক মারফতে খুঁজে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোম্পানির পক্ষে ম্যানাজার আদালতের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন এবং আমরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়। কিন্তু এই বিষয়টাকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে ‘আপা’ শব্দটাকে হাইলাইট করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্য করা হয়েছিল।কিন্তু আমাকে যে কেউ আপা ডাকতেই পারে, অনেকেই আপা, খালা ডাকে। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, আপা ডাক নিয়ে জরিমানা করার কোনো সুযোগ নেই, আপা ডাক কোন দন্ডনীয় অপরাধ নয়, এটা আইনেও নেই। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংবাদে বলা হয়েছে আমি জরিমানা করেছি কর্মচারীকে, কিন্তু বিষয়টি এমন নয় আমি জরিমানা কোম্পানিকেই করেছি, কোম্পানির পক্ষে সাক্ষর দিয়েছেন তারা এবং ম্যানাজার কোম্পানির পক্ষে সে টাকা পরিশোধ করেছেন। যেহেতু এইটা একটা কোম্পানি সাক্ষরতো কোম্পানির কেউ না কেউ করতে হবে। এখন কোম্পানি সে কর্মচারীকে কি করবে সেটাতো আমাদের বিষয় নয়।
বনফুল তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়–য়া বলেন, আপা ডাকায় নয় আমাদের শাখায় বাসি মিষ্টি থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।

ট্যাগস :

Dalton Zahir Appointed as Global Ambassador for Skål International Alto Valle in Argentina

আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি ওসমানীনগরে বনফুলকে জরিমানা ইউএনও’র দাবী

আপডেট সময় ০৭:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগরের বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি তাজপুর শাখাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে আপা ডাকার পর ‘৫০ হাজার টাকা জরিমানা শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ঘটনাটি এমন নয় দাবী করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আপা ডাকায় নয় বাসি মিষ্টি থাকায় বনফুলকে জরিমানা করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগেও বনফুলকে সতর্ক করেছি। কিছুদিন আগে আমি ক্রেতা সেজে বনফুলে মিষ্টি কিনতে গেলে দেখা যায় অনেক আগের বাসি মিষ্টি। কতদিন আগের মিষ্টি সেটা জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারী একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। আমি মিষ্টির চালান দেখতে চাইলে প্রথমে চালান দেখাতে না চাইলেও পরে আমার পুরো টিম আসার পর চালান দেখান। পরবর্তীতে এক কর্মচারী স্বীকার করেন নতুন মিষ্টির সাথে পুরাতন মিষ্টি মিলিয়ে বিক্রি করছেন তারা। ম্যানাজারকে নিয়ে আসতে বললে কর্মচারী সেই মন্নান পালিয়ে যান। যেহেতু আমরা প্রথমে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীর নিকট থেকে স্বীকারোক্তি পেয়েছি সেজন্য পরবর্তীতে ম্যানাজার আসলে আমি পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে নিয়ে আসতে বললে তিনি তাকে লোক মারফতে খুঁজে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোম্পানির পক্ষে ম্যানাজার আদালতের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন এবং আমরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়। কিন্তু এই বিষয়টাকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে ‘আপা’ শব্দটাকে হাইলাইট করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্য করা হয়েছিল।কিন্তু আমাকে যে কেউ আপা ডাকতেই পারে, অনেকেই আপা, খালা ডাকে। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, আপা ডাক নিয়ে জরিমানা করার কোনো সুযোগ নেই, আপা ডাক কোন দন্ডনীয় অপরাধ নয়, এটা আইনেও নেই। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংবাদে বলা হয়েছে আমি জরিমানা করেছি কর্মচারীকে, কিন্তু বিষয়টি এমন নয় আমি জরিমানা কোম্পানিকেই করেছি, কোম্পানির পক্ষে সাক্ষর দিয়েছেন তারা এবং ম্যানাজার কোম্পানির পক্ষে সে টাকা পরিশোধ করেছেন। যেহেতু এইটা একটা কোম্পানি সাক্ষরতো কোম্পানির কেউ না কেউ করতে হবে। এখন কোম্পানি সে কর্মচারীকে কি করবে সেটাতো আমাদের বিষয় নয়।
বনফুল তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়–য়া বলেন, আপা ডাকায় নয় আমাদের শাখায় বাসি মিষ্টি থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।