ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনা…তাহসিনা রুশদীর লুনা

  • ডেস্ক নিউজ:
  • আপডেট সময় ১০:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫০৯২ বার পড়া হয়েছে

আতাউর রহমান কাওছার,ওসমানী নগর থেকে: সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষক এবং ছাত্র। আমরা এখন শুধু সুন্দর সুন্দর ভবন আর রাস্তাঘাট দেখতে চাই, কিন্তু শিক্ষার মূল কাজটা করছি না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্য দিকে চলে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী তাজপুর ডিগ্রি কলেজে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওসমানীনগর উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, তোমাদের সবাইকে স্বপ্ন দেখতে হবে। কেউ প্রধানমন্ত্রী, ডিসি বা এসপি হওয়ার স্বপ্ন দেখো না; সবাই শুধু বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করো। বিদেশে গিয়ে অনেকে টেক্সি চালায় বা রেস্টুরেন্টে কাজ করে। টাকা ইনকাম করা ঠিক আছে, কিন্তু জীবন গড়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করে। সেখানে একটি শহরই আছে যাকে সাইকেল সিটি বলা হয়। অথচ আমাদের এখানে ছাত্ররা ২০-৩০ হাজার টাকার স্মার্টফোন চালায়, হোন্ডা কেনার জন্য বিদেশ থেকে টাকা আনায়, কিন্তু পরীক্ষার ৫ হাজার টাকা ফি দিতে কষ্ট হয়। ছাত্রদের বিলাসিতা ত্যাগ করে জীবন গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ স্কুলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা দ্বিগুণ। সমাজের চাকা সচল রাখতে হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সমানভাবে শিক্ষিত হতে হবে। একটি গরুর গাড়ির দুই চাকা সমান না হলে যেমন গাড়ি চলে না, সমাজও তেমন এগোতে পারে না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসীদের নিয়ে একটি ‘এডুকেশন ট্রাস্ট’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

রাস্তাঘাট প্রসঙ্গে এমপি লুনা বলেন, সবাই শুধু রাস্তা পাকা করার দাবি জানায়। কিন্তু গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের লুটপাটের কারণে আমরা অনেক কাজ করতে পারিনি। বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকা নয় যে সব রাস্তা রাতারাতি পাকা হয়ে যাবে। তবে আমরা পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক আমিনুল ইসলাম রাসেল র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশেষ অতিথি ইউএনও মুনমুন নাহার আশা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান এসটি এম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ। সংবর্ধীত অতিথি সহকারী অধ্যাপক কমল কলি চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক সাংবাদিক ড. মোশাহীদ আলী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের, গর্ভনিং কসিটির সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বেলায়েত করিম সুজন, প্রভাষক আতাউর রহমান সাদী, কলেজ ছাত্র জুনায়েদ হোসেন,রায়হান আহমদ, নাইম আহমদ ছাত্রী নাবিলা আনিকা ও সুমাইয়া বেগমসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, ছাত্রী সেলিনা আক্তার শিউলী ও গীতা পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক সুশান্ত দেব নাথ।

ট্যাগস :

Dalton Zahir Appointed as Global Ambassador for Skål International Alto Valle in Argentina

শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনা…তাহসিনা রুশদীর লুনা

আপডেট সময় ১০:৩২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আতাউর রহমান কাওছার,ওসমানী নগর থেকে: সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষক এবং ছাত্র। আমরা এখন শুধু সুন্দর সুন্দর ভবন আর রাস্তাঘাট দেখতে চাই, কিন্তু শিক্ষার মূল কাজটা করছি না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্য দিকে চলে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের ওসমানীনগরের ঐতিহ্যবাহী তাজপুর ডিগ্রি কলেজে ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওসমানীনগর উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, তোমাদের সবাইকে স্বপ্ন দেখতে হবে। কেউ প্রধানমন্ত্রী, ডিসি বা এসপি হওয়ার স্বপ্ন দেখো না; সবাই শুধু বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করো। বিদেশে গিয়ে অনেকে টেক্সি চালায় বা রেস্টুরেন্টে কাজ করে। টাকা ইনকাম করা ঠিক আছে, কিন্তু জীবন গড়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করে। সেখানে একটি শহরই আছে যাকে সাইকেল সিটি বলা হয়। অথচ আমাদের এখানে ছাত্ররা ২০-৩০ হাজার টাকার স্মার্টফোন চালায়, হোন্ডা কেনার জন্য বিদেশ থেকে টাকা আনায়, কিন্তু পরীক্ষার ৫ হাজার টাকা ফি দিতে কষ্ট হয়। ছাত্রদের বিলাসিতা ত্যাগ করে জীবন গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বেশিরভাগ স্কুলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা দ্বিগুণ। সমাজের চাকা সচল রাখতে হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সমানভাবে শিক্ষিত হতে হবে। একটি গরুর গাড়ির দুই চাকা সমান না হলে যেমন গাড়ি চলে না, সমাজও তেমন এগোতে পারে না। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসীদের নিয়ে একটি ‘এডুকেশন ট্রাস্ট’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

রাস্তাঘাট প্রসঙ্গে এমপি লুনা বলেন, সবাই শুধু রাস্তা পাকা করার দাবি জানায়। কিন্তু গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের লুটপাটের কারণে আমরা অনেক কাজ করতে পারিনি। বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকা নয় যে সব রাস্তা রাতারাতি পাকা হয়ে যাবে। তবে আমরা পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক আমিনুল ইসলাম রাসেল র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশেষ অতিথি ইউএনও মুনমুন নাহার আশা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান এসটি এম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ। সংবর্ধীত অতিথি সহকারী অধ্যাপক কমল কলি চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক সাংবাদিক ড. মোশাহীদ আলী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের, গর্ভনিং কসিটির সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বেলায়েত করিম সুজন, প্রভাষক আতাউর রহমান সাদী, কলেজ ছাত্র জুনায়েদ হোসেন,রায়হান আহমদ, নাইম আহমদ ছাত্রী নাবিলা আনিকা ও সুমাইয়া বেগমসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, ছাত্রী সেলিনা আক্তার শিউলী ও গীতা পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক সুশান্ত দেব নাথ।