ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মক্কা-মদিনা সুরক্ষিত থাকুক-এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা… হুমায়ুন কবির Logo ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার পরিচয় দিলেন ইতালি প্রবাসী রিফাত হোসেন Logo জাহান্দার আলী এমপি কে ইতালির মিলানে মাদারীপুর জেলা বাসীর গণসংবর্ধনা প্রদান Logo সক্রেটিস : সত্যের সন্ধানে এক অমর দার্শনিক Logo জাবেদ মাহমুদ এর পিতার মৃত্যুতে ইউরো বাংলা’র শোক প্রকাশ Logo জাহান্দার আলী এমপি কে ইতালির মিলানে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত Logo সিলেটে তালামীযে ইসলামিয়ার মীলাদুন্নবী (সা.) পালিত Logo নরওয়ের অসলোতে নোবেল কমিটির নিকট বাংলাদেশীদের স্মারকলিপি প্রদান Logo ইউরোপ সফরে এমপি জাহান্দার আলী মিয়া Logo পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

জীবন বাঁচাতে দেশে ফেরাপরদিনই মৃত্যু

  • ডেস্ক নিউজ:
  • আপডেট সময় ০২:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৫০৯৭ বার পড়া হয়েছে

মীর মাহফুজ আনাম, মাস্কাট : ওমানে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও আর্থিক সংকটে ভোগার পর অবশেষে দেশে ফিরেও শেষ রক্ষা হয়নি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রবাসী মোহাম্মদ ইদ্রিছের। দেশে ফেরার পরদিনই গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার আগের দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সযোগে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি দেশে ফেরেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল মাসকাট মাবেলায় নিজ কর্মস্থল কোম্পানির গ্যারেজে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় বাদর আল সামা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সুলতান কাবুস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কয়েকদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পর তার স্পন্সর কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি। এমনকি পূর্ণ চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পাশাপাশি চার মাসের বেতনও পাননি তিনি, যা তার আর্থিক সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।

পরবর্তীতে তার বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে আবেদনও করেন।
অবশেষে দেশে ফিরলেও ভাগ্য সহায় হয়নি। দেশে পৌঁছানোর পরদিনই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন,’ প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের প্রতি স্পন্সরদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জানাই। ‘

নিহত ইদ্রিসের ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্পন্সরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

ট্যাগস :

মক্কা-মদিনা সুরক্ষিত থাকুক-এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা… হুমায়ুন কবির

জীবন বাঁচাতে দেশে ফেরাপরদিনই মৃত্যু

আপডেট সময় ০২:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মীর মাহফুজ আনাম, মাস্কাট : ওমানে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও আর্থিক সংকটে ভোগার পর অবশেষে দেশে ফিরেও শেষ রক্ষা হয়নি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রবাসী মোহাম্মদ ইদ্রিছের। দেশে ফেরার পরদিনই গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার আগের দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সযোগে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি দেশে ফেরেন।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল মাসকাট মাবেলায় নিজ কর্মস্থল কোম্পানির গ্যারেজে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় বাদর আল সামা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সুলতান কাবুস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কয়েকদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পর তার স্পন্সর কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি। এমনকি পূর্ণ চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পাশাপাশি চার মাসের বেতনও পাননি তিনি, যা তার আর্থিক সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।

পরবর্তীতে তার বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় হাড়ে ফাটল ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে আবেদনও করেন।
অবশেষে দেশে ফিরলেও ভাগ্য সহায় হয়নি। দেশে পৌঁছানোর পরদিনই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন,’ প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের প্রতি স্পন্সরদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার দাবিও জানাই। ‘

নিহত ইদ্রিসের ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্পন্সরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।