1. zahirul@bdnews24.eu : বিডি নিউজ24.ইউ ডেস্ক: : বিডি নিউজ24.ইউ ডেস্ক:
বিকিনি বোরখার পেছনের রাজনীতি - বিডি নিউজ ইউরোপ
Online TV
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পা‌কিস্তা‌নের টি‌ভি‌তে ই‌ন্ডিয়ার পতাকা:‌ ‌বিব্রত ইমরান খান গ্রিসে আবারও হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা: ভাগ্য খুলতে পারে অনিয়মিত অভিবাসীদের ইতালিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সহজেই ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করুন গ্রীস থেকে পুশব্যাকের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে আতঙ্কে অভিবাসীরা সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক টি এম ফখরুল এর ঈদ শুভেচ্ছা দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন -শেখ গোলাপ মিয়া ব্যারিষ্টার হলেন তারেক কন্যা জাইমা রহমান এথেন্সে বাংলা বুটিক হাউজের উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রদূত জসিম উদ্দিন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মহান বিজয় দিবস উদযাপন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড কক্সবাজার সরকারি বিদ্যালয় দুটোর ভর্তি যুদ্ধ ফ্রেন্ডস অব চিলড্রেন কর্তৃক আয়োজিত এথেন্সের খ্রীষ্টমাস বাজারে বাংলাদেশ দূতাবাস ড. মুহাম্মদ ইউনুস কে নিয়ে আসিফ নজরুল এর স্ট্যাটাস বার্সেলোনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমানী নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহ জামাল আহমদ কে সংবর্ধনা প্রদান কক্সবাজারের রুহুল আমিন সিকদার গুরুতর অসুস্থ- দোয়া কামনা পরিবারের পুলিশের বাধায় পন্ড হলো ছাতকের ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধা স্পেন আওয়ামীলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এস আর আই রবিন এবং সাধারন সম্পাদক রিজভী আলম ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মোতাহের হোসেনের স্ত্রী ইন্তেকাল গ্রীসে যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস সিরিয়া পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া বাবার উদ্দেশ্যে ছেলে… সামাজিক ব্যবসা নিয়ে জার্মান পার্লামেন্টের স্পিকার ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠক বেশি লম্বা হওয়ায় মিলছে না হোটেল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে রাসেল হাওলাদারের দেশে বিনিয়োগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যন্য উদাহরণ জাতীয় তামাকমুক্ত সপ্তাহে রাজশাহীতে মতবিনিময় সভা চাঁদপুর জেলায় পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন পদক্ষেপ বাংলাদেশের বিশ বছরে পদার্পণ ইতালি চলতি বৎসর ৩০,৮৫০ জন বিদেশী শ্রমিক নিবে যেখানেই অন্যায় সেখানেই দ্রুত প্রতিরোধ করতে হবে এ্যাড.মশিউর রহমান ঝালকাঠিতে স্বপন কুমার মূখার্জিকে সংবর্ধনা প্রদান ঝালকাঠি সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ, অভিযান শুরু অপহরণের একমাস পর কলেজ ছাত্রীকে গাজিপুর থেকে উদ্ধার দ্রুত ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আহ্বানঃ লায়লা শাহ্

বিকিনি বোরখার পেছনের রাজনীতি

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৪২ Time View

বিকিনি বোরখার পেছনের রাজনীতি

লেখক : রেক্সোনা পারভীন সুমি

দেশের গড়পড়তা মানুষের চিন্তায় কোনকালে ধর্করর্ম খুব কম মজবুত আসনে ছিলো না। পারিবারিক মূল্যবোধের প্রথম পাঠ ধর্মের আলোকেই হয়ে থাকে। যাকে আজকের লিবারেলরাও বলেন পারিবারিক মূল্যবোধ।
পারিবারিক জীবন যাপনে অনেকে লিবারেল ছিলেন, এখন নেই তা সত্য হলেও। অর্থনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে যাপনের নিরব অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠার পর্যায়ক্রম খেয়াল করলে দেখা যায় যেখানেই আর্থিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানেই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাড় বাড়ন্ত। যেখানেই জমি নিয়ে বিরোধ, সেখানেই একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তুলে দিয়ে সমস্যা ধামাচাপা দেয়া হয়। নদীর চর, খাস জমিতে আরো বেশি বেশি।

এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আরেকটা বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এতিমখানা, মাদ্রাসা, মন্দির। এরা সামাজিক আয়ের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটা ভাগ নিয়ে পরিবারগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলে। এতিম বাচ্চাদের জন্য সামাজিক মমতা থাকলেও, যেহেতু দায়িত্ব পালনের আর কেউ নেই ফলে এই অংশটা তাদের প্রায় একচেটিয়া। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এরা তো হাত পেতে নিচ্ছে তাই অবনত থাকবে, তারা বিনয়াবনত থাকেও। কিন্তু এই লেনদেনের মধ্যে দিয়েই তারা শেকড় বাকড় বিস্তার করে রাখে প্রতিটা মানুষের মনে। যিনি ধর্মীয় বিধিবিধানের এইসব অংশে সক্রিয় নন, তাকেও এদের গতিবিধি বিবেচনায় রাখতে হয়। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঘরে ঘরে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।

মনে হতে পারে, এ আর এমন কি? খেয়াল করেন, বাচ্চাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যত না হয়, তারচে বেশি ওয়াজ মাহফিল এবং রাজনৈতিকভাবে পশ্চাদপদ চিন্তার প্রসার ঘটে। সবচে বেশি রগরগে উপস্থাপন হয় ‘পাপীষ্ঠা নারী শরীরের’ এবং এর ব্যবহারের। এসব ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে না কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেই ই, না কোন সাংস্কৃতিক লড়াই আছে।

আরামের শহর ছেড়ে কয়জন আলোকিত মানুষ এতিম, নিম্ন আয়ের, প্রান্তিক মানুষের দায়ীত্ব নিয়ে কাজ করেছেন?
১০০০ঃ১ অনুপাতও কি হবে?
এই যে এতিমের দায়ীত্ব তারা নিয়েছেন, কোন বড় প্রতিষ্ঠানের এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল কাজ আছে? না নেই। এরা রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে টিকে থাকে এবং রাজনীতিও এদের সাথে নিয়ে জনগণের মধ্যের উদার, চিন্তাশীল ও প্রতিবাদী অংশকে চাপে রাখে। যে কারণে ধর্মীয় বলয়ের প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু আধ্যাতিক চর্চা এবং প্রশান্তির যায়গা না হয়ে, রাজনৈতিক ক্ষমতার দোসর হিসেবে টিকে থাকে।

বলতে পারেন, এনজিওগুলো কাজ করে। কিন্তু এনজিওদের সরাসরি রাজনৈতিক কাজ করার ক্ষমতা এবং নিয়ম নেই। যারা কিছুটা করার চেষ্টা করেছেন, তারা বিপন্ন হয়েছেন অথবা দাতাদের পরামর্শমাফিক কাজ করেন। রাজনৈতিক অধিকার ও জীবনের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ রাষ্ট্র ঠিকঠাক মত করতে পারলে এনজিওদের দরকার পড়তো না।

ধর্ম ব্যবসায়ীদের ক্ষমতা ব্যবহারের কুটকৌশল আবার লিখে বিখ্যাত হতে চাওয়া মানুষগুলোকে রসদও যোগায়। তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সামান্য পার্থক্যকে ক্রমাগত আক্রমণ করে করে বড় ইস্যু করে ফেলেন। কে কার চেয়ে বেশি বোঝাপড়া রাখেন মোটা দাগে সেই লড়াইটাই চলতে থাকে। কেউ কম নাস্তিক হলে তো কথাই নেই। সেই সাথে ট্যাগ দেয়ার অথোরিটি তো আছেই।

অন্যদিকে প্রতিবাদী মানুষগুলোরও হাতিয়ার হয়ে ওঠে লেখা। তবে, সে লেখার প্রয়োগ হতে পারার মত কাঠামো সামাজিক পরিমন্ডলে নেই। খুব একটা তৈরিও হচ্ছেনা।

সে বিচারে সকল রকম প্রান্তিক মানুষগুলো প্রান্তিকই থেকে যান। পরিপূর্ণ রাজনৈতিক সামাজিক চিন্তার প্রসার ছাড়া ডিভাইস হাতে পাওয়া তরুন প্রজন্মও এক প্রকার অন্ধকারেই থাকেন। তাদের প্রিয় লেখক বা হিট এন্টারটেইনারের মত যুক্তির পালটা কথা ছোড়ার কৌশল রপ্ত করলেও মুক্ত চিন্তার প্রসারের জন্য এক দুই ইঞ্চি যায়গাও পান না। উদ্যোগী তরুণ যে নেই, তা তো না। তবে কীবোর্ড থেকে চোখ সরালেই তো অমসৃণ দুনিয়া।

যে দুনিয়ায় প্রতিবাদী মানে বামপন্থি, বামপন্থি মানেই নাস্তিকতার ট্যাগ ধারী। আজীবন শিখে আসা নাস্তিকতার মানে তাকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখার সংকেত দেয়। অন্যদিকে ধর্মীয় চিন্তা বলয়ে জানা বোঝার কসরত এবং নিজের আত্মকেন্দ্রিকতার গন্ডী ভাঙ্গার যন্ত্রণা থাকেনা। বরং ইহকাল পরোকালের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য বিধিবদ্ধ ধর্মীয় চর্চায় স্বস্তি থাকে। লোভ এবং ভয়ের বাইরে চিন্তাকে শান দেয়ার দরকার পড়েনা। এমনকি সোশিওসাইকোলজিক্যাল যন্ত্রণা, হতাশার মুক্তিরও কোন কার্যকর সামাজিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃত বিকল্প হয়ে দাঁড়ায় ধর্মকর্ম।
ঠিক এই কারনেই বামপন্থি সংগঠনের লোকসংখ্যা না বৃদ্ধি পেতে পারেনা, মাঠ পর্যায়ে ছাত্র সংগঠন করার অভিজ্ঞজনরা তা জানেন। যে তরুণ তরুণী ছক ভেঙ্গে বাইরে আসতে পারেন
তারা অল্প কিছু প্রগতিশীল মানুষের কাছে গুরুত্ব পেলেও অধিকাংশের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। যে রাজনীতি অধিকাংশ মানুষের পক্ষে, সে রাজনীতির ভাষা ও সাংস্কৃতিক চর্চা- গণমানুষের কাছে অচেনা থেকে যায়।

প্রগতিশীলতা চর্চাও যে রাজনীতি, এসব ডামাডোলে প্রগতিশীলতার চর্চাকারী উদারমনা মানুষগুলোও স্বীকার করতে চাননা। হুমায়ুন আজাদ যেমনটা বলেছিলেন- তিনি রাজনীতি করা মানুষগুলোকে পছন্দ করতেন না, অথচ তারাই তার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। শরীরের, পোশাকের বা মননের স্বাধীনতা যে নাগরিকের আর সব স্বাধীনতা থেকে আলাদা নয় সে বোঝাপড়া খুব কম মানুষের আছে। স্বাধীন স্বত্তা বিকাশের পরিমণ্ডলে না থাকা মানুষগুলোকে কতখানি মাশুল দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইচ্ছা পুরণ করতে হয়, সেসব জানা দরকার।

আর্থসাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আন্দোলনের দফা, দাবি নির্ধারণ করে দেয়। সেজন্য বিকিনি পরে চলাফেরার স্বাধীনতাকে বোরখা খোলার স্বাধীনতার সাথে গুলিয়ে ফেলতে আমি নারাজ। বোরখা এবং বিকিনি উভয়ই পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক মনষ্কাঠামোগত ভোগ্যবস্তুর উপস্থাপন এবং সংরক্ষণের প্রতীক হলেও, প্রয়োগের রাজনৈতিক বিন্যাস ভিন্ন ভিন্ন। ফলে প্রগতিশীল রাজনীতি বিকাশের পথ রুদ্ধ থাকলে এভাবেই একের পর এক ইস্যুর আড়ালে সাগর চুরি পার পেয়ে যাবে। পড়ে থাকবে খিচুড়ি আর বোরখার ইস্যু।

নাস্তিকতার সার্টিফিকেট বিতরণকারীরা আবার মাইক্রোস্কোপ তাক্ করে থাকেন, কোন বামপন্থি কোন ধর্মীয় নেতার সাথে একই বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তা প্রচার করে দু’হাত দেখে নেয়ার জন্য। যেনবা তাদের বোঝাপড়া দিয়েই রাজনীতিকগণ কাজ করে চলেন। যে বই পড়ে তারা বামপন্থা সম্পর্কে জেনেছেন, উৎসের আদর্শ মনে রেখেছেন; যেসব দেশের পটপরিবর্তনের ইতিহাস এবং দীর্ঘকালের সংগ্রামে অনেক ছোট ছোট অধ্যায় হয়তো পড়ে দেখার সুযোগও পাননি। অন্যদিকে নিজের রাষ্ট্রের অব্যবস্থার খুব সামান্য অংশই তারা জানেন, অথবা বৃহদাংশ জানলেও বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর সাহস দেখাতে যান না। এখানেও অপেক্ষাকৃত সহজ তরিকায় আলোচনায় থাকার মওকা কাজে লাগান।

ফলাফল, নেপোয় মারে দই। হিজাব বোরখার ফ্যাশন বা ট্রেন্ড তখন আর খেয়াল থাকেনা। খেয়াল থাকেনা বিকিনি বা বোরখা একই নিপীড়ন কাঠামোর উপজাত অংশ। এই কাঠামোর আমদানীকারক বা ব্যবসায়ীদের খতিয়ানও তারা দেখেন না। যা কি না, সরাসরি রাজনৈতিক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

লেখক: রেক্সোনা পারভীন সুমি, সদস্য, নারী সংহতি।

(বিডিএনইইউ / ১৭ সেপ্টেম্বর / জ ই)

এই নিউজটি ভালো লাগলে আপনার ফেইসবুক টাইমলাইনে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরো খবর

Copyright © All rights reserved

Developed By BD-Europe IT Zone
Our%20family%20
         
Disclaimer  Advertisement Privacy  About us  Contact us