1. zahirul@bdnews24.eu : বিডি নিউজ24.ইউ ডেস্ক: : বিডি নিউজ24.ইউ ডেস্ক:
অমানবিক সমাজে মানবিক ডাঃ মঈন উদ্দিনের আগমন কি আর হবে? - বিডি নিউজ ইউরোপ
Online TV
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পা‌কিস্তা‌নের টি‌ভি‌তে ই‌ন্ডিয়ার পতাকা:‌ ‌বিব্রত ইমরান খান গ্রিসে আবারও হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা: ভাগ্য খুলতে পারে অনিয়মিত অভিবাসীদের ইতালিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সহজেই ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করুন গ্রীস থেকে পুশব্যাকের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে আতঙ্কে অভিবাসীরা সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক টি এম ফখরুল এর ঈদ শুভেচ্ছা দেশবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন -শেখ গোলাপ মিয়া ব্যারিষ্টার হলেন তারেক কন্যা জাইমা রহমান এথেন্সে বাংলা বুটিক হাউজের উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রদূত জসিম উদ্দিন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মহান বিজয় দিবস উদযাপন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড কক্সবাজার সরকারি বিদ্যালয় দুটোর ভর্তি যুদ্ধ ফ্রেন্ডস অব চিলড্রেন কর্তৃক আয়োজিত এথেন্সের খ্রীষ্টমাস বাজারে বাংলাদেশ দূতাবাস ড. মুহাম্মদ ইউনুস কে নিয়ে আসিফ নজরুল এর স্ট্যাটাস বার্সেলোনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমানী নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহ জামাল আহমদ কে সংবর্ধনা প্রদান কক্সবাজারের রুহুল আমিন সিকদার গুরুতর অসুস্থ- দোয়া কামনা পরিবারের পুলিশের বাধায় পন্ড হলো ছাতকের ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধা স্পেন আওয়ামীলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এস আর আই রবিন এবং সাধারন সম্পাদক রিজভী আলম ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার মোতাহের হোসেনের স্ত্রী ইন্তেকাল গ্রীসে যুবদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন দক্ষিণ ছাতক উপজেলা বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস সিরিয়া পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া বাবার উদ্দেশ্যে ছেলে… সামাজিক ব্যবসা নিয়ে জার্মান পার্লামেন্টের স্পিকার ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠক বেশি লম্বা হওয়ায় মিলছে না হোটেল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে রাসেল হাওলাদারের দেশে বিনিয়োগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যন্য উদাহরণ জাতীয় তামাকমুক্ত সপ্তাহে রাজশাহীতে মতবিনিময় সভা চাঁদপুর জেলায় পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন পদক্ষেপ বাংলাদেশের বিশ বছরে পদার্পণ ইতালি চলতি বৎসর ৩০,৮৫০ জন বিদেশী শ্রমিক নিবে যেখানেই অন্যায় সেখানেই দ্রুত প্রতিরোধ করতে হবে এ্যাড.মশিউর রহমান ঝালকাঠিতে স্বপন কুমার মূখার্জিকে সংবর্ধনা প্রদান ঝালকাঠি সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ, অভিযান শুরু অপহরণের একমাস পর কলেজ ছাত্রীকে গাজিপুর থেকে উদ্ধার দ্রুত ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আহ্বানঃ লায়লা শাহ্

অমানবিক সমাজে মানবিক ডাঃ মঈন উদ্দিনের আগমন কি আর হবে?

  • Update Time : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৪৪ Time View

বাংলাদেশ কাকে হারালো, জানেন?

বিডিএনইউ ডেক্সঃ

আমাদের অমানবিক সমাজে হইতো কোন এক সময় হারিয়ে যাওয়া মানবিক ডাক্তার মঈন উদ্দিন এর অনুরূপ আদর্শিকের আগমন ঘটতে ও পারে। তবে তিনি কি আর ফিরে আসবেন? আমি কার কথা বলছি হয়ত বুঝেছেন তাহলে শুনুন-

তখন ২০১০ সাল। আমি উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। রাত ১টার দিকে বাবার বুকে প্রচল্ড ব্যথা অনুভূত হয়। গভীর রাতে কোনো রকমে বাবাকে নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ভোরে খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি, আব্বু কার্ডিওলজি ওয়ার্ডের ফ্লোরে শুয়ে আছেন। গভীর রাতে আসার পর ইমার্জেন্সিতে কয়েকটি বড়ি খাইয়ে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছেন। আমি ছোট মানুষ, তার ওপর সরকারি হাসপাতাল। কথা বললে কেউ পাত্তা দেয় না। ‘মৃতপ্রায়’ বাবাকে দেখে নিজেকে এত অসহায় আর কখনো লাগেনি। আব্বুর শারীরিক অবস্থা এমন যে, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের চিন্তা করাটাও কঠিন। দুপুর আনুমানিক ১২টার পর বাবার নাম ধরে ডাক পড়ল ওয়ার্ডে। কয়েকজন ডাক্তার এসে দেখে গেলেন। বললেন, ‘রোগির অবস্থা ভালো। মঈন স্যারকে বলবেন, আমরা এসেছিলাম।’

আমি ধরে নিলাম, মঈন স্যার বলতে আমাদের এলাকার ডা. মঈন উদ্দিন-ই হবেন। চিন্তায়ও পড়লাম যে, আব্বুর অসুস্থতার খবর উনি পেলেন কী করে? খবর পেলেও উনিই বা কেন লোক পাঠাবেন আব্বুকে দেখার জন্য! কিচ্ছুক্ষণের মধ্যে তিনি আসলেন। ফাইল দেখলেন, খবর নিলেন। বললেন, ‘চেরাগ আলী (ওসমানী মেডিকেলের অ্যাম্বুল্যান্স চালক, আমাদের এলাকার) গুরুতর অসুস্থ। হাতে কিছু কাজ থাকায় আগে আসতে পারিনি। চিন্তার কিছু নেই, দ্রুত ভালো হয়ে যাবেন।’’

আমাকে উনার ফোন নম্বর দিয়ে বললেন, কোনো সমস্যা হলে ফোন দিতে। আমার নম্বরও উনি ফোনে সেভ করলেন। এরপর রোজ আসতেন খোঁজ নিতেন। স্বাভাবিকভাবেই কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে আমার বাবার গুরুত্ব বেড়ে গেল। সুস্থ হলেন দ্রুত। সেদিন থেকেই মনের গহীনে গভীর শ্রদ্ধাবোধ জমা হয়েছিল লোকটার জন্য।

এরপরে ব্যক্তিগত চেম্বারে যতবার গেছি, কখনো ফি নেননি। সবসময় বলতেন, ‘পরে দিয়েন, দেওয়ার তো সময় আছে।’’ ফি দেওয়ার সময় তিনি আর দিলেন না। অথচ আমার পরিবারের পক্ষে অন্তত এই ফি দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তা তিনি ভালো করেই জানতেন।

এ গল্পটি আমার নিজের। উনাকে ঘিরে এমন হাজারো গল্প ছড়িয়ে আছে শত-সহস্র মানুষের মনে।

গত ৫ এপ্রিল করোনা শনাক্তের পর এলাকার লোকজনের আর্তনাদ দেখে কে? সবার মনে পাহাড়সম কৃতজ্ঞতাবোধ আর অস্থিরতা। কবে সুস্থ হবেন মঈন উদ্দিন। কোথায় আছেন, কেমন আছেন, স্ত্রী সন্তানের অবস্থা কী? এসব নিয়ে নানা কৌতূহল লোকজনের মধ্যে। সবার শেষ কথা একটি-ই, ‘আল্লাহ আমরার মঈন উদ্দিনরে ভালাভাবে আমরার মাঝে ফিরাইয়া দেও।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম বলে মানুষের ধারণা আমার কাছে উনার খোঁজ-খবর পাওয়া যাবে। তাই প্রতিদিনই কিছু মানুষকে উনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে হয়েছে।

কয়েকদিন আগে এক বৃদ্ধা এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমরার মঈন উদ্দিনের বুলে ওউ (করোনা) রোগ অইগিছে?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘ভিজিট না দিয়া কতবার দেখাইছি হিসাব নাই। টেকা (টাকা) না নিয়াও আধা ঘণ্টা ধরি রোগী দেখত। ভালা করি চেক করত। আমি রোজা রাখছি, আল্লাহয় মাফ করউক্কা।’’

এমন অসংখ্য বৃদ্ধা আর্তনাদ করেছেন তার সুস্থতার জন্য। কিন্তু তিনি এসব মানুষের আর্তনাদে সাড়া দেননি, সাড়া দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তার ডাকে।

তিনি রোজ মেডিকেল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত সময় পার করতেন। অন্য চিকিৎসকরা ছুটির দিনে পরিবারের সাথে সময় কাটান। কিন্তু তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা। প্রতি শুক্রবার সস্ত্রীক নিজ জন্মস্থান ছাতকের নাদামপুর গ্রামে আসতেন অসহায়, দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য। গ্রামের বাড়ীতে নিজের ঘরেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী মানুষকে এ সেবা দিয়ে গেছেন বছরের পর বছর। শুধুই কি বিনামূল্যে রোগী দেখা? রোগ অনুযায়ী সবাইকে ফ্রি ওষুধ দিতেন। নিজের সংগ্রহে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকলে নগদ টাকা দিতেন ওষুধ কেনার জন্য। এমনকি যেসব রোগীর ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রয়োজন হতো তাদের সিলেট শহরে যাতায়াতের ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ দিয়ে দিতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল এলাকার একটি লোকও যাতে চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়। কত মানুষের অস্ত্রোপচারের খরচ তিনি বহন করেছেন, তার কোনো হিসেব নেই। গরিব মানুষের পাশে তিনি আজীবন দাঁড়িয়েছেন।

ধর্ম, বর্ণ বা রাজনীতি যত বিভেদই বলেন তিনি সবাইকে নিয়ে এক কাতারে এসে দাঁড়াতেন। তিনি এসবের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে একজন মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তাই তো তার মৃত্যুতে আওয়ামিলীগ-বিএনপি, ডান-বাম বলে কোনো বিভেদ নেই। কারণ সবাই মানুষ মঈন উদ্দিনে আকৃষ্ট। তিনি আগে একজন মানুষ হয়েছেন, তারপরে ডাক্তার হয়েছেন।

তিনি চলে গেছেন ঠিক, চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের অপরাধী বানিয়ে চলে গেলেন।

এফসিপিএস, এমডি ডিগ্রিধারী একজন মেধাবী ডাক্তার নিজ কর্মস্থলে আইসিইউ পেলেন না, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পেলেন না। এমনকি এই রাষ্ট্র তাকে একটা আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স যোগাড় করে দেয়নি। রাষ্ট্র তার শেষ ইচ্ছাটার প্রতি ন্যূনতম গুরুত্ব পর্যন্ত দেয়নি। রাষ্ট্রের এমন আচরণে আমরা শঙ্কিত এই ভেবে যে, ভবিষ্যতে এই দেশে মঈন উদ্দিনরা আর জন্মাবে না। যে দেশে মঈন উদ্দিনদের ন্যূনতম মূল্যায়ন করা হয় না, সেই দেশে মেধাবীরা চিকিৎসক হতে যাবে কেন? যে পেশায় গেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়, মঈন উদ্দিনরা চাইলে কি সেই পেশায় যেতে পারতেন না? প্রশ্ন রইল জাতির কাছে।

*লিখেছেন : জিয়াউল ইসলাম

বিডিএনইউ /১৮ এপ্রিল ২০২০/জই/এথেন্স

এই নিউজটি ভালো লাগলে আপনার ফেইসবুক টাইমলাইনে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই সম্পর্কিত আরো খবর

Copyright © All rights reserved

Developed By BD-Europe IT Zone
Our%20family%20
         
Disclaimer  Advertisement Privacy  About us  Contact us